🔴 সর্বশেষ
Loading...
  • Home  
  • প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই পুরস্কার নিতে চান কবি মোহন রায়হান
- সাহিত্য

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই পুরস্কার নিতে চান কবি মোহন রায়হান

বিতর্ক, স্থগিতাদেশ, সমালোচনা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন কবি মোহন রায়হান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুরস্কারের সম্মান গ্রহণ করলেও এর অর্থমূল্য ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না। সেই অর্থ তিনি সামর্থ্যহীন কবি, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের কল্যাণে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর হাত […]

বিতর্ক, স্থগিতাদেশ, সমালোচনা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন কবি মোহন রায়হান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুরস্কারের সম্মান গ্রহণ করলেও এর অর্থমূল্য ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না। সেই অর্থ তিনি সামর্থ্যহীন কবি, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের কল্যাণে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করতে চান।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোহন রায়হান বলেন, তিনি কখনো পুরস্কারের প্রত্যাশী ছিলেন না এবং কোনো ধরনের তদবিরও করেননি। বাংলা একাডেমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই তাকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। কিন্তু নাম ঘোষণার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু হয়, যা পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিকভাবে জটিল করে তোলে।

তার ভাষায়, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয় এবং এমনকি ২২ জন লেখক-সাংবাদিকের নামে একটি বিবৃতিও প্রচার করা হয়, যাদের অনেকেই পরে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও পুরস্কার বিতরণের সময় তার নাম ঘোষণা করা হয়নি। আগে পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকায় তিনিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে জানা যায়, ৪১ বছর আগে লেখা একটি কবিতাকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শেষ মুহূর্তে পুরস্কার প্রদান স্থগিত করা হয়। ঘটনাটি সাহিত্যাঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে কবি মোহন রায়হানকে পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২ মার্চ বাংলা একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কবি মোহন রায়হান বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে তিনি কোনো পদক বা অর্থের জন্য আগ্রহী নন; বরং সম্মান ও স্বীকৃতিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, পুরস্কারের অর্থ তিনি গ্রহণ করবেন না এবং তা আর্থিকভাবে অসচ্ছল সাহিত্যকর্মীদের সহায়তায় ব্যয় করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করা মানে অপশক্তিকে জিতিয়ে দেওয়া। আবার অপমানের প্রতিবাদও জরুরি। অনেক ভেবেচিন্তেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি,সম্মান গ্রহণ করব, কিন্তু অর্থ নয়।

কবি মোহন রায়হান সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই যেন তিনি পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেন। প্রয়োজনে অনুষ্ঠানের তারিখ পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তার বক্তব্যে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি এবং সাহিত্যকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে রাখাই সময়ের দাবি।

পুরো ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের নীতিমালা সংস্কারের দাবিও তুলেছেন তিনি। তার মতে, স্বচ্ছ, দলনিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞনির্ভর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও জাতীয় পুরস্কার ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং উদার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পুরস্কার গ্রহণ বা বর্জন নিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে পক্ষে-বিপক্ষে মত তৈরি হলেও ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য পুরস্কার গ্রহণের পক্ষে মত দেন। শেষ পর্যন্ত ঐক্য, মর্যাদা ও মুক্তচিন্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েই নিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন কবি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য, প্রতিহিংসার বদলে প্রজ্ঞা এবং অপমানের পরিবর্তে মর্যাদা বেছে নেওয়াই তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রেজিষ্ট্রেশন নং- রাজ-৪০৫

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মো. আখলাকুজ্জামান

Phone:  01730-934250

Mail: dailydibaratree@gmail.com

প্রতিষ্ঠাতাঃ

মরহুম অধ্যাপক আত্হার হোসেন
(সাংবাদিক, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী)

ঠিকানাঃ

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ২য় তলা, গুরুদাসপুর, নাটোর থেকে প্রকাশিত ও নাটোর প্রিন্টিং প্রেস, কানাইখালী, নাটোর থেকে মুদ্রিত। 

Dainik Dibaratree @2026. All Rights Reserved.