অনলাইন ডেস্কঃ কক্সবাজারের টেকনাফে বাহারছড়া পাহাড় থেকে অপহরণ চক্রের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালীর পাহাড়ি এলাকা থেকে এই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন, রবিউল আলম, মুজিবুর রহমান এবং নুর বশর তারা সকলেই একই এলাকার বাসিন্দা।
নিহত রবিউল আলমের বাবা বলেন, রাতে ভাত খাওয়ার সময় একটা ফোন পেয়ে ঘর থেকে বের হয় রবিউল আলম পরে তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আজ সকালে পাহাড়ে কাট কাটতে গেলে কয়েকজন শিশু তাদের মরদেহ দেখতে পান। তারা ফিরে এসে সকালে পরিবারকে জানান। পরে তিনি গঠনাস্থল থেকে তার ছেলেকে পুলিশ সহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছে, পাহাড়ে যাওয়া শিশুদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়।
ঘটনাস্থল থেকে রবিউল আলম ও মুজিবুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নুর বশরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, নিহতদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
পাশাপাশি মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলার কথা বলেন এবং অন্য দুইজনও অপহরণ চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানান তিনি।
পুলিশ বলছে, অপহরণ চক্রের সদস্যদের নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
সর্বশেষ, এলাকাবাসী ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে না চাইলেও, বাহারছড়ার পাহাড়ে অপহরণ চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ তারা।
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের জড়িয়ে গড়ে ওঠা অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
