বাউল সম্রাটখ্যাত ফকির লালন সাঁই–এর ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি ভক্ত, সাধু ও বাউলদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। শুক্রবার পহেলা কার্তিক থেকে শুরু হওয়া এই স্মরণোৎসব চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
সকালের দিক থেকেই আখড়াবাড়িতে ভক্তদের আগমন শুরু হয়, যা বিকেলের পর ক্রমেই বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের সড়কজুড়ে মানুষের ঢল নামে। আখড়াবাড়ির মূল প্রাঙ্গণ ও মরা কালীগঙ্গা নদীর তীরজুড়ে বিশাল জনসমাগম দেখা যায়।
এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে এই দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। বিকেলে মরা কালীগঙ্গা নদীর তীরে নির্মিত উন্মুক্ত মঞ্চ থেকে ভার্চুয়ালি উৎসবের উদ্বোধন করেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফরিদা আক্তার, মফিদুর রহমান, ফরহাদ মজহার এবং রেজাউদ্দিন স্টালিন। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক গায়ত্রী চক্রবর্তী।
আলোচনায় গায়ত্রী চক্রবর্তী বলেন, লালন ছিলেন মানবতাবাদী দর্শনের প্রতীক, যিনি ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে মানুষকেই সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। ফরহাদ মজহার উল্লেখ করেন, জাতীয়ভাবে এই দিবস উদযাপন লালনচর্চাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও বিস্তৃত করবে।
উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার তার বক্তব্যে লালনকন্যা খ্যাত প্রয়াত শিল্পী ফরিদা পারভীন–কে স্মরণ করেন। আর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, লালনের দর্শন আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, এবং ভবিষ্যতে এ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে পাবনা ও ঢাকায়ও আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাবনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তা লালনের জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন এবং তার রচিত গান পরিবেশন করা হয়।
অন্যদিকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।
